Thursday, August 29, 2024

নাসার চেষ্টা ব্যর্থ! মহাকাশেই আটকে আছেন সুনীতারা

 মনে করা হয়েছিল যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে সুনীতাদের নিয়ে ফিরবে বোয়িং স্টারলাইনার। কিন্তু তাঁদের না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরছে বোয়িং স্টারলাইনার।

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস


দুই মহাকাশচারী বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস আপাতত বন্দি মহাকাশেই। আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে দিন কাটছে সুনীতা ও তাঁর সঙ্গী নভোচরের।
বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস


গত জুন মাসে মহাকাশে রওনা দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচর সুনীতা উইলিয়ামস। মাত্র ৮-১০ দিনের জন্য মহাকাশ সফরের প্রস্তুতি নিয়ে বুচ উইলমোরের সঙ্গে ইলন মাস্কের বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে চেপে পাড়ি জমান সুনীতা উইলিয়ামস।

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

কিন্তু মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মহাশূন্যেই আটকে রয়েছেন ওই দুই মহাকাশচারী। মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে মহাকাশচারীদের মহাকাশে রেখে দেওয়াই নিরাপদ পন্থা।

প্রথমে মনে করা হয়েছিল যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে সুনীতাদের নিয়ে ফিরবে বোয়িং স্টারলাইনার। পরে জানা যায়, তাঁদের না নিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসবে মহাকাশযানটি। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ওই মহাকাশযান ফিরে আসবে পৃথিবীতে।
সুনীতা উইলিয়ামস

সুনীতা উইলিয়ামস

বোয়িং স্টারলাইনার নামের ওই মহাকাশযান থেকে হিলিয়াম গ্যাস লিক হচ্ছিল। সেই অবস্থায় পৃথিবীতে ফেরার চেষ্টা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেছিল নাসা।


বোয়িং স্টারলাইনার সুনীতাদের ছাড়াই ফিরে আসার ফলে সংস্থার বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। অন্তত সাড়ে ১২ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বোয়িং, ভারতীয় মুদ্রার হিসাবে যা প্রায় ১০৪৮ কোটি টাকা।

সুনীতা উইলিয়ামস

সুনীতা উইলিয়ামস

নেই যোগাযোগের পথ, পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি! তবু কিসের টানে লাখো মানুষ পেরোতে চান ‘নরকের দ্বার’?

তবে মহাকাশযানের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে আসছে। মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্তদের একাংশের অভিযোগ, ছিদ্রপথে হিলিয়াম বেরিয়ে আসছে, তা আগে থেকেই জানত নাসা এবং বোয়িং।


এখনই সুনীতা এবং তাঁর সহযাত্রী ব্যারি বুচ উইলমোরের পৃথিবীতে ফেরার সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছে না আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে আরও একটি মহাকাশযান পাঠাবে নাসা।

ইলন মাস্কের নিজস্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

আগামী ছ’মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রেই কাজ করবেন সুনীতা এবং বুচ। মহাকাশে গবেষণার কাজেই তাঁরা কাটিয়ে দেবেন এই দীর্ঘ সময়।


তবে সময় যত এগোচ্ছে, বাড়ছে আশঙ্কা। দীর্ঘ দিন ধরে মহাকাশে আটকে থাকায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে সুনীতা ও বুচের। যদিও নাসা দাবি করছে, সুনীতা এবং ব্যারির প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা নেই।
বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস

বুচ উইলমোর ও সুনীতা উইলিয়ামস


শরীরের ওপর অভিকর্ষের নিরবচ্ছিন্ন টান না থাকায় মহাকাশে মানবদেহের পেশি ও হাড়ের ঘনত্ব দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। দুই সপ্তাহ পরেই পেশির ঘনত্ব ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ছয় মাস থাকলে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এ ছাড়াও মহাকাশে থাকলে দ্রুত হারে কমতে থাকে লাল রক্তকণিকার পরিমাণ। সে ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে রক্তাল্পতার মতো শারীরিক সমস্যারও।

গবেষণা বলছে, মহাকাশে থাককালীন নভোচরের প্রতি সেকেন্ডে ২ লক্ষের বদলে ৩ লক্ষ লোহিত কণিকা ধ্বংস হয়ে যায়।


আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে মহাকাশেই রয়েছেন সুনীতারা। এর আগে ২০০৬ ও ২০১২ সালে মহাকাশ অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন সুনীতা। সব মিলিয়ে ৩২২ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

হাড় ও পেশির ক্ষয় রোধে প্রতি দিন কয়েক ঘণ্টা করে ব্যায়াম করছেন তাঁরা। তাঁদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখছেন চিকিৎসকেরাও।


নাসার রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি দিন কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমোচ্ছেন সুনীতা ও বুচ। তাঁদের ওজন যাতে না কমে যায় তার জন্য ব্যবস্থা রয়েছে পুষ্টিকর খাবার ও পানীয়ের।


নভোচরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিন মহাকাশে থেকেছেন নাসার ফ্র্যাঙ্ক রুবি। তিনি ৩৭১ দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশে কাটিয়েছিলেন।


মহাকাশে একটানা সবচেয়ে বেশি সময় থাকার রেকর্ড রাশিয়ান নভোচর ভ্যালেরি পলিয়াকভের। ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি মির মহাকাশ স্টেশনে ৪৩৭ দিন কাটিয়েছিলেন।

More

More

Native

সাইবার জগতের নতুন হুমকির তথ্য দিয়েছে ক্যাসপারস্কি

 ক্যাসপারস্কি’র গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম ২০২৪ সালের এৎিুল পথকে জুন মাসে সাইবার অপরাধীদের কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করেছে। কেউ কেউ তাদের স্বাভাবিক কাজের ধরণ বজায় রাখলেও অন্যরা উল্লেখযোগ্যভাবে তাদের টুলস আপডেট করেছে ও কার্যক্রম প্রসারিত করেছে। ক্যাসপারস্কি’র টেলিমেট্রি ডেটা থেকে অত্যাধুনিক সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে, যা বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, সামরিক, টেলিযোগাযোগ ও বিচার বিভাগকে লক্ষ্য করে কাজ করে। অ্যাডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট (এপিটি) ট্রেন্ড-এর সর্বশেষ রিপোর্ট থেকে কিছু মূল বিষয়বস্তু এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনে ব্যবহৃত কম্প্রেশন ইউটিলিটি এক্সজেড-এর ব্যাকডোরিং সহ ওপেনসোর্স থ্রেটের ব্যবহার এই সাইবার অপরাধীদের কাজের ধরণ পরিবর্তনের একটি লক্ষনীয় দিক। হামলাকারীরা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে উন্নত পরিবেশে অনুপ্রবেশ করে এবং অবিছিন্ন আক্সেস নেয়। এর সাথে তারা অ্যান্টি-রিপ্লে ফিচার ও কাস্টম স্টেগানোগ্রাফির মাধ্যমে তাদের কার্যকলাপ গোপন রাখে। এই কৌশলগুলোর কারনে বছরের পর বছর এসব হুমকি শনাক্ত করা যায়নি।

হোমল্যান্ড জাস্টিসের মতো গ্রুপগুলো ক্ষতিকারক আক্রমণ শুরু করলে, হ্যাকটিভিজম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আলবেনিয়াতে এই গ্রুপ ১০০ টিবি’রও বেশি ডেটা উঠিয়ে নিয়েছিল এবং ডাটাবেস সার্ভার মুছে দিয়েছিল। এতে করে তারা যেসব প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করেছিল, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এর বাইরেও, আক্রমণকারীরা তাদের টুলসেট আপডেট করেছে। গোফি নামক গ্রুপটি ওয়াওয়া ও ভিজ্যুয়ালটাস্কেলের মতো পুরানো সরঞ্জাম বাদ দিয়ে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে একটি লোডার রয়েছে যা বৈধ নথিকে হুবহু নকল করতে পারে। হামলাকারীদের অনুপ্রবেশের অভিযান দিন দিন বিকশিত হচ্ছে।

ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা জুড়ে এই হুমকির ব্যাপক প্রসারের ওপর জোর দিয়ে এপিটি প্রচারাভিযানের বিশ^ব্যাপী প্রভাব ছিল।

ক্যাসপারস্কির গ্রেট-এর প্রধান নিরাপত্তা গবেষক ডেভিড এম বলেন, অভিযোজন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে এপিটি ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। এর ফলে এটি একটি শক্তিশালী হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। এই হুমকি মোকাবেলা করতে সমগ্র সাইবার কমিউনিটিকে এক হতে হবে। শুধুমাত্র সম্মিলিত সতর্কতা ও উন্মুক্ত যোগাযোগ আমাদের হুমকি থেকে এগিয়ে থাকতে এবং আমাদের ডিজিটাল বিশ^কে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করতে পারে।


ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আগামী ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর ১৬তম বারের জন্য অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আসন্ন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট সামিট (এসএএস)। এই সম্মেলনে এসব জটিল হুমকির ওপর করা আরও অনেক গবেষণা প্রকাশ করা হবে।

Thursday, August 22, 2024

বন্যার বড় কারণ অস্বাভাবিক বৃষ্টি

 এবারের বন্যার একটি বড় কারণ হচ্ছে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে লঘুচাপের কারণে এবার প্রবল বর্ষণ হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের মুহুরী, ফেনী, গোমতী নদীর মাধ্যমে (যাদের ক্যাচমেন্টের বেশির ভাগ অংশ ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থিত) ফেনী ও কুমিল্লা জেলায় ব্যাপক বন্যা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের অভ্যন্তরের বৃষ্টি। আমাদের মনে থাকবে, জুলাই মাসের শেষ দিকে এসেও এই নদীগুলোর পানি বেড়েছিল এবং বিপৎসীমা অতিক্রম করেছিল। এতে প্লাবনভূমির পানির আধারগুলো প্রায় পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

এর মধ্যে ১৯ আগস্ট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। ২০ আগস্ট বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এসব এলাকায় এদিন ১৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কুমিল্লায় ২১০ মিলিমিটার, অমরপুরে (গোমতী ক্যাচমেন্টের ওপরের দিকে) ২৬৭ মিলিমিটার আর মুহুরী নদীসংলগ্ন পরশুরামে ৩০৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। ২১ আগস্ট বৃষ্টি একটু কমলেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আবার বৃষ্টি বেড়ে যায়। আশা করছি, দু–এক দিনের মধ্যে বৃষ্টি কমবে, পানিও কমতে শুরু করবে।


তথ্য আদান–প্রদানে পারস্পরিক সহযোগিতা ভালোভাবে কাজ করছে। এ কারণে বন্যার পূর্বাভাস আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে এটা ঠিক, ভারতের কিছু ব্যারাজ বা ড্যামের ফটক খোলার তথ্য পেলে বাংলাদেশের বন্যার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হতো। তথ্য আদান–প্রদানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এটি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে আরেকটি কারণ আলোচনায় এসেছে। বলা হচ্ছে, ভারতের ত্রিপুরার ধলাই জেলায় গোমতী নদীর ওপরে থাকা ডুম্বুর ড্যামের ফটক খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বন্যা হয়েছে। কিন্তু শুধু এই ড্যামের ফটক খুলে দেওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এ রকম উপসংহারে যাওয়া ঠিক হবে না। যে বাঁধের কথা বলা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে। এটির তুলনামূলক আকার, পানি সংরক্ষণের ক্ষমতা, দূরত্ব ও কৌশলগতভাবে ছেড়ে দেওয়া পানির পরিমাণ এবং ক্যাচমেন্টজুড়ে প্রবল বৃষ্টি বিবেচনায় নিলে প্রতীয়মান হয় যে ক্যাচমেন্টে কী পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, সেটিই বাংলাদেশের সীমানায় বন্যার প্রবাহকে নির্ধারণ করেছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ফেনী নদীতে কোনো ড্যাম নেই এবং নদীগুলোয় যে কয়েকটি ব্যারাজ আছে, সেগুলো বন্যায় কোনো ভূমিকা রাখেনি। কারণ, ব্যারেজগুলোর সব ফটক এ সময় খোলা ছিল।

উজানের দেশ হিসেবে ভারতের তথ্য দেওয়া দরকার। একসময় আমরা সেভাবে তথ্য পেতাম না। তবে এ কথা স্বীকার করতে হবে যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ৮–১০ বছর ধরে ভারতের অনেকগুলো পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশন থেকে বাংলাদেশকে তথ্য সরবরাহ করা হয়।

তথ্য আদান–প্রদানে পারস্পরিক সহযোগিতা ভালোভাবে কাজ করছে। এ কারণে বন্যার পূর্বাভাস আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। তবে এটা ঠিক, ভারতের কিছু ব্যারাজ বা ড্যামের ফটক খোলার তথ্য পেলে বাংলাদেশের বন্যার প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হতো। তথ্য আদান–প্রদানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে এটি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

২০২২ সালে সিলেট ও সুনামগঞ্জে হওয়া বন্যার সঙ্গে এবারের বন্যার তেমন একটা তফাত নেই। তখনো প্রবল বৃষ্টি হয়েছিল। এ রকম বৃষ্টির ফলে কী ধরনের বন্যা হতে পারে, তার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি থাকা দরকার। বন্যার পানি যাতে বিস্তৃত এলাকায় না ছড়ায়, সে জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি রাখতে হবে।

বন্যার আর্লি ওয়ার্নিং বা আগেভাগে সতর্ক করার কোনো বিকল্প নেই। আর আগেভাগে এ ধরনের বন্যার পূর্বাভাস পেতে হলে বৃষ্টির পূর্বাভাস পেতে হবে। কারণ, আমাদের নদীগুলোর অববাহিকা এলাকা ছোট। পানিও দ্রুত আসে। তবে এখানে একটি দুঃখের বিষয় হলো, বৃষ্টির পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে আমরা অতটা নির্ভুল (অ্যাকুরেসি) পূর্বাভাস দিতে পারি না। এটি একটি বড় সমস্যা। এ জায়গায় উন্নতি করতে হবে। কীভাবে এটি করা যায়, তা আমাদেরই করতে হবে, গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে।

বন্যার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পূর্বপ্রস্তুতি। ফেনীর কিছু উপজেলার মানুষের জন্য এ ধরনের বন্যা একেবারে নতুন। সে জন্য কোনো প্রস্তুতি ছিল না। বন্যা মোকাবিলায় ‘ইভাকুয়েশন রুট’ আগেভাগে পরিকল্পনা করে রাখা দরকার। এটি করা থাকলে বন্যাদুর্গতদের উদ্ধার করা সহজতর হয়। অন্যদিকে বন্যা যাতে দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে জন্য পানি নামার পথগুলো ঠিক রাখতে হবে। বেশির ভাগ জায়গায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা একটি সমস্যা। সার্বিকভাবে আগাম সতর্কতা এবং পূর্বপ্রস্তুতি যত ভালো হবে, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি তত কম হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

  • অধ্যাপক মাসফিকুস সালেহীন, পানিবন্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট, বুয়েট